একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর UK তে পড়াশোনার ৯টি কারণ

 

ukযখন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার চেষ্টা করছেন তখন একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় নিমন্ত্রক দেশ, যাকে আপনার কোর্সের জন্য আপনি বেছে নিয়েছেন। এটা শুধুমাত্র আপনার অর্জিত ডিগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করবে না, পরবর্তীতে আপনার ক্যারিয়ার পছন্দের ক্ষেএেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদি আপনি স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা গবেষণা প্রোগ্রামের জন্য যুক্তরাজ্যে (UK) আবেদন করতে চান, শুরুতে UK এর ঐ কোর্সটিকে অন্য দেশ বা বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধার সাথে মূল্যায়ন করতে হবে।

এখানে UK তে পড়ালেখার সুবিধাগুলো দেয়া হল:

১. আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা

উচ্চ শিক্ষার জন্য সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের কাছে UK একটি জনপ্রিয় গন্তব্য এবং 2013 QS World University Rankings অনুযায়ী, বিশ্বের ছয়টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি এখানে অবস্থিত। আপনি UK বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডিগ্রী অর্জন করবেন যা বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগদাতা ও সরকারী সংস্থা কর্তৃত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে। ২৭,000 স্নাতক চাকরিজীবি উপর QS গ্লোবাল জরিপের ফলাফলে UK এর একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতকের উচ্চ কাজ পাবার সুযোগের প্রতি নির্দেশ করে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কেমব্রিজ এবং অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক করা শিক্ষার্থীদের বিশ্বের সবচেয়ে নিয়োগযোগ্য প্রার্থী হিসাবে গন্য করা হয়।

২. গুনগত মানের শিক্ষা

UK এর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয় এবং আদর্শমান যে পূরণ হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল সংস্থা দ্বারা ক্রম নির্ধারন করা হয়। যদিও UK এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই বিভিন্ন প্রোগ্রামের আদর্শ এবং মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবুও উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (QAA) স্বাধীনভাবে অডিট পরিচালনা করে। এছাড়াও পেশাদারী সংস্থা পাঠ্যক্রমে নির্দেশনা দেয় এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃথক পৃথক বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। স্কটল্যান্ডের কলেজগুলো মহারানীর শিক্ষা পরিদর্শক দ্বারা পর্যালোচিত হতে পারে।

৩. UK শিক্ষা ব্যবস্থা যে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করে

UK-তে পড়াশোনার সুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হল নিজের পছন্দমতো শিক্ষাক্ষেত্র এবং প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা যায়। আপনি ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর ১৫0,000 কোর্স থেকে কোর্স নির্বাচন করতে পারবেন এবং প্রসপেক্টাস অর্ডারের জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনি যদি UK তে একটি মাস্টার্স কোর্স করতে চান , তবে একটি বড় সুবিধা হল সব মাস্টার্স প্রোগ্রামের মেয়াদকাল এক বছরের । অন্যথায়, পিএইচডির সঙ্গে একযোগে একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম করে আপনি একটি অতিরিক্ত বছর বাঁচাতে করতে পারেন। UK তে কোর্সের সল্প মেয়াদ পড়াশোনা এবং বাসস্থান খরচ কমাতে সাহায্য করে।

UK শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্র এবং শিক্ষকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে এবং একটি কোর্সের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় একত্রিত করে পড়ার স্বাধীনতা প্রদান করে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় সহায়তা করে যাতে তাদের অপরিহার্য পড়া এবং ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়,যা সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন। বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের তথ্য এবং সহায়তা প্রদানের জন্য কাউন্সিলারস এবং উপদেষ্টা আছে, যে আপনাকে শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে অভ্যস্থ হতে এবং কোর্সে র যেকোন বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন ।

৪. শক্তিশালী গবেষণা অবকাঠামো

একজন গবেষণা শিক্ষার্থী হিসাবে UK তে পড়াশুনার সুযোগ সুবিধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, এটি আপনার কাছে সত্যিই আকর্ষণীয় হবে যে, UK বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার আট শতাংশ এগিয়ে রাখে (ব্রিটিশ কাউন্সিল অনুযায়ী) । অতি সাম্প্রতিক গবেষণা মূল্যায়ন অনুশীলন (RAE) UK এর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলো দ্বারা পরিচালিত গবেষণার ৫৪ শতাংশকে ‘আন্তর্জাতিক ভাবে চমৎকার’ বা ‘বিশ্বের অগ্রণী’ হিসাবে বিভক্ত করেছে। ক্লিনিকাল সায়েন্সেস, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিক ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণার জন্য UK জোর দিয়ে থাকে (যুক্তরাজ্য গবেষণার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তুলনামূলক পারফরমেন্স-ব্যবসা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বিভাগের জন্য প্রস্তুত একটি রিপোর্ট)

৫. কাজ এবং পড়ালেখা

UK তে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। একটি পার্ট টাইম কাজ, ইন্টার্নশীপ বা ছুটির সময় প্লেসমেন্টের কাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী মুলক কাজের মূল্যবান দক্ষতা অর্জনের কয়েকটি উপায় যা আপনি আপনার সিভিতে যোগ করতে পারেন। কিছু কলেজে প্লেসমেন্টের কাজ পঠিত কোর্সের অংশ, এবং আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ প্লেসমেন্ট প্রদানে সহায়তা করতে পারে । (এছাড়াও পড়ুন: All you need to know about Working while Studying in the UK)

৬. পড়ালেখার পরে কাজের অনুমতি

এপ্রিল ২০১২ থেকে পড়ালেখা পরবর্তী কাজের ভিসায় কিছু পরিবর্তন হয়েছে ।এখন আপনি স্নাতক শেষ করার পর UK তে থাকতে পারবেন, যদি আপনার বার্ষিক কমপক্ষে ২0,000 ইউরো (২০ লক্ষ টাকা) বেতনের একটি কাজের সুযোগ থাকে। UK তে কোর্স শেষ করে থাকতে পারবে এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যার কোন সীমা নেই। আপনাকে ইউকে বর্ডার এজেন্সিতে একটি কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে, এবং আপনি আপনার পড়ালেখা পরবর্তী চাকরীর অবস্থার উপর নির্ভর করে, নিচ থেকে একটি নির্বাচন করতে পারেন:

টিয়ার 2 (সাধারণ) ভিসা – সাম্প্রতিক সময়ে স্নাতকদের জন্য যারা একটি ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রীর ধারক এবং একজন লাইসেন্সকৃত নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কমপক্ষে ২0,000 ইউরোর বেতনের একটি কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
টিয়ার 1 উদ্যোক্তা ভিসা – শিক্ষার্থীদের জন্য যারা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা স্পন্সর করা একটি বিশ্ব মানের উদ্ভাবনী ধারণার উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
টিয়ার 1 ব্যতিক্রমী প্রতিভা ভিসা – বিজ্ঞান, কলা ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী প্রতিভার জন্য সংরক্ষিত।

৭. বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তা

অনেক বৃত্তি আছে যেখানে আপনি আবেদন করতে পারেন, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ও গবেষণা পর্যায়ে, যা আপনাকে আপনার পড়ালেখা এবং জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে সাহায্য করবে।
UK বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত বৃত্তির জন্য , আপনি আবেদন করার যোগ্য হওয়ার আগে আপনাকে কোর্স অধ্যয়নের স্বীকৃতি লাভ করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহ

UKতে বাংলাদেশি ছাত্ররা যদি ফুল টাইম কোর্সের জন্য নথিভুক্ত হয় তবে তারা ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস (এন.এইচ.এস) কর্তৃক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার যোগ্য হয়। যদি আপনার স্ত্রী/ সঙ্গী এবং / অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা আপনার কোর্সের সময় আপনার সাথে থাকে তবে তারাও পেমেন্ট থেকে অব্যাহতি পাবে। আপনার কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য নীতি থাকতে পারে।

৯. ভিন্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা

UK তে পড়ালেখা একটি ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের , নতুন মানুষ এবং সারা বিশ্ব থেকে আসা আন্তর্জাতিক ছাত্রদের সহযোগী হবার এবং নতুন জায়গা আবিষ্কারের সুযোগ করে দেয় । আপনি উপকৃত হতে পারেন একটি ক্ষেএে দক্ষতা উন্নয়নের দ্বারা, যা আজকের বিশ্বের কাজের ধারার অংশ হবার জন্য প্রয়োজনীয় ।

Share Button
পড়া হয়েছে 1,377 বার

Back to Top