দীর্ঘসূত্রিতা বা আলস্য এড়িয়ে চলো

 

তোমার কোনো একটি প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘসূত্রিতা জড়িয়ে থাকে কি?
অথবা এটা কি এক অভ্যাস ?

 

আলস্যের প্রতিবিধানঃ

১) একটা সাধারণ পরিকল্পনা হাতে নাও
২) নিচের প্রাথমিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দাও
৩) অগ্রগতির ( পরিকল্পনাটির) খতিয়ান নেবার আগে সমাধানগুলো তৈরি করে রাখো ।

তুমি কী করতে চাও ?

  • মুখ্য উদ্দেশ্যটি কি?অন্তিম ফলাফলটাই বা কি? 
    এ স্পষ্ট হতেও পারে, নাও হতে পারে
  • সেখান অব্দি অর্থাৎ মুখ্য উদ্দেশ্য অভিমুখে যাবার প্রধান উপায়গুলো কী কী?
    তন্নতন্ন করে জানবার প্রয়োজন নেই; অবশ্য দৃষ্টি প্রসারিত হওয়াটা দরকার
  • তুমি কতটা এগুলে ?
    স্বীকার করো যে তুমি কাজটা আরম্ভ করেই ফেলেছো ,
    যদিও এটা তুমি ভাবছ মাত্র।
    যেহেতু প্রথম পদক্ষেপের থেকেই শুরু হয় প্রতিটি যাত্রা ।

কাজটা তুমি কেন করতে চাইছ ?

  • তোমার অনুপ্রেরণার কারণ কী ? 
    তোমার অনুপ্রেরণার কারকটি যদি নেতিবাচক হয়, তবুও ভেবো না ।
    এটাই সৎ এবং শুভ সূচনা।
    সে যাই হোক, তোমার অনুপ্রেরণার কারকটি যদি নেতিবাচক হয়; সেটি ইতিবাচক না হওয়া অব্দি পুনঃসম্পাদন করো, করো পুনঃনির্মাণ ।
  • লক্ষ্যে পৌঁছুবার পর তোমার আর কী কী ইতিবাচক ফলাফল দেখা দিতে পারে ? 
    এগুলো শনাক্ত করলে পরে সেগুলোই তোমার সামনে তাদের লাভালাভের সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করবে যেগুলোর থেকে তুমি না জেনে সরে বসেছিলে। স্বপ্ন দেখতে সাহস করো।

এখন তোমার সামনে আর কী কী বাধা বিঘ্ন দেখা দিতে পারে তার একটা তালিকা তৈরি করো।

  • তোমার উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করতে তোমার কেমনতর দক্ষতা রয়েছে?
  • তোমার নিজের যেটুকু দক্ষতা রয়েছে তার বাইরেও তুমি আর কী ধরণের সুযোগ সুবিধে চাও?
    সুবিধেগুলো যে শুধু শারীরিক ( physical) হবে ( যেমন সরঞ্জামাদি বা টাকা পয়সা), তা নয়; সময়, ব্যক্তি/বৃত্তিধারী বা জ্যষ্ঠ্য সহযোগী , এমনকি অবস্থাও এর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
  • যদি তোমার কোনো অগ্রগতি না হয় তবে কী হবে? 
    It won’t hurt to scare yourself a little…
    এরকম আশংকাতে তোমাকে সামান্যতমও আতংকিত করবে , এটা ঠিক হবে না।

Untitled-1

 

 

এখন তোমার পরিকল্পনা বা করবার কাজের তালিকাটি উন্নীত করো।

  • প্রধান, বাস্তবধর্মী সূচনা
    একটি পরিকল্পনা সফল হয়, যখন একে পর্যায়ক্রমে শুরু করা হয়।
    ছোট কাজ দিয়েই শুরু করো।
    এগিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে যে তথ্যগুলো পাবে বা জটিলতাগুলোর মুখোমুখী হবে সেগুলো তালিকাতে যোগ করো। থেমে থেকো না, এগিয়ে চলো।
  • প্রতিটি কাজ কতোটা সময় নেয়।
    একটি কার্যক্রমণিকা বা নির্ঘণ্ট তোমাকে অগ্রগতির খতিয়ান রাখতে এবং তোমার গতিপথ নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।
  • দিনের কোন সময়, দিন, বার সপ্তাহ ইত্যাদি তুমি কাজ করবার জন্যে স্থির করে রেখেছো। এ তোমাকে সাহায্য করবে এভাবে—
    কাজ করবার এক নতুন অভ্যাস গড়ে তোল।
    কর্মময় একটি পরিবেশ গড়ে তোল, অন্যমনস্কতাকে প্রশ্রয় দিও না। ( অন্যমনস্কতাকে প্রশ্রয় না দিলে, তোমার পরিকল্পনাটিকে সহজ ভাবে রূপায়ন করতে সক্ষম হবে।)
  • ফলস্বরূপে তুমি অগ্রগতির প্রতিটি পদক্ষেপে প্রাপ্তির আনন্দ উপলব্ধি করবে।
    এবং একই সময়ে তুমি অনেকখানি না করতে পারার বেদনাও অনুভব করবে।
  • পর্যালোচনার জন্যে একটা সময় নির্দ্ধারণ করো।
    তোমাকে উৎসাহিত করবেন বা প্রেরণা যোগাতে পারবেন এমন এক বিশ্বাসী, জ্যেষ্ঠ বা দক্ষ বন্ধু খোঁজে বের করে নাও।

স্বীকার করোঃ

  • শেখার অভিজ্ঞতার ভুল সূচনা এবং তার পরের ভুলগুলো।
    এগুলো সাফল্যের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘অভিজ্ঞতা’কে প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ করে।
  • বাধা বিঘ্ন এবং পলায়নবাদি মনঃ
    এগুলোর অস্তিত্ব অস্বীকার করো না, কিন্তু এগুলোর কাছে পরাজয়ও স্বীকার করো না।
  • আবেগঃ
    লক্ষ্যস্থানের থেকে বিচলিত হচ্ছো বলে মনে হলে হতাশার অস্তিত্বকে স্বীকাৰ করো। স্বীকার করো যে তোমার একটা সমস্যা ছিল, কিন্তু তুমি এনিয়ে কিছু একটা করছওতো ।
  • দিবাস্বপ
    কল্পনা করো যে তুমি সফল হয়েই গেছ।

সবশেষে, আলস্য যদি তোমার অভ্যেস হয়ে থাকে—তবে তাৎক্ষণিক কাজ আর পরিকল্পনাগুলো হাতে নাও আর সেখান থেকেই আবার শুরু করে দাও।
প্রথম পদক্ষেপের থেকেই শুরু হয় প্রতিটি যাত্রা ।

Share Button
পড়া হয়েছে 256 বার

Back to Top