Dantest

 

 

মুখ,দাত, মাড়ি এবং অন্যান্য শক্ত এবং নরম টিস্যগুলোর যাবতীয় রোগ-ব্যাধির প্রতিষেধক প্রদান এবং চিকিৎসা করাই হল দাঁতের চিকিৎসা।সাধারন ডেন্টিস্টদের কাজ হচ্ছে পরিষ্কার এবং ফিলিং করার মাধ্যমে আক্রান্ত দাতকে ক্ষতি থেকে রক্ষা এবং মেরামত করা এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করা।এই পেশার বিশেষজ্ঞগণ হচ্ছেন অর্থোডেন্টিস্ট, পেরিওডন্টিক্স, ওরালসার্জন, পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট, প্রোস্থোডেন্টিস্ট, এবং এন্ডোডেন্টিস্ট ইত্যাদি।

 

জবপ্রফাইল


Career-as-

 

• অর্থোডেন্টিস্টগণ দাতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির সময় কে কাজে লাগিয়ে এলোমেলো দাতগুলি ঠিক করেন। তারা এ কাজের জন্য বন্ধনি অথবা এই ধরণের অন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করে থাকেন।

• পেরিওডেন্টিস্টগণ মাড়ি ও টিস্যুর রোগের চিকিৎসা করেন। তারা ওরাল ইমপ্লান্টের কাজ ও করে থাকেন।

• ওরাল সার্জনগণ দাত ভেঙ্গে যাওয়া, মুখের অস্বাভাবিক গঠন, জটিলতা দুর করা, মুখের মধ্যে এবং চোয়ালে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যেমন টিউমার ইত্যাদি অপারেশন করে থাকেন।

• পেডিয়াট্রিকডেন্টিস্টগণ শিশুদের দাতের চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ।

• প্রোসদোডেন্টিস্টগণ কৃত্রিম দাত বসানোতে বিশেষজ্ঞ। তারা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কৃত্রিম দাত সংযোজন করে থাকেন।

• এন্ডোডেন্টিস্টরা দাতের ভিতরের স্ট্রাকচারের উপরচিকিৎসা করে থাকেন। তারা নার্ভ ইনফ্লামেশন চিকিতসায় বিশেষজ্ঞ।তারা রুট ক্যানেলের চিকিৎসাও করে থাকেন।

 

 

 

skill-dentist

 

 

ডেন্টিস্ট্রিের উপর একটি ভিডিও ক্লিপ


 

 

কর্মসংস্থানের সুযোগ


 

• হাসপাতাল গুলির দন্ত বিভাগ, নার্সিং হোম, ডেন্টালক্লিনিক, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ডেন্টাল কলেজ গুলির শিক্ষা বিভাগে।

• যে কোন ঔষুধ কোম্পানি অথবা টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ, মাড়ির যত্ন নেয়া পণ্য ইত্যাদি উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানসমুহের গবেষক ও উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করা।

• এছাড়াও এটি একটি আত্মকর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিময় পথ।

• এ পেশায় আপনি নিজে প্রাক্টিস শুরু করতে পারেন। বহু ডেন্টিস্ট চাকুরির চেয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্র্যাকটিস করাকে অধিকতর পছন্দ করেন কারণ। যেমনিভাবে এতে রয়েছে ভাল উপার্জনের সুযোগ তেমনি রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। প্রাইভেট প্রাকটিশনাররা কেউ নিজে একা কাজ করেন অথবা নিজের ভবনে ক্লিনিক খুলে বসেন অথবা সহকর্মীদের সাথে পরিচালনার খরচ ও পুঁজি ভাগাভাগির মাধ্যমে।

 

আয়ের সুযোগ


 

• সরকারী হাসপাতাল গুলিতে নতুন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডেন্টিস্ট্রি  মাসিক ১৪,০০০ টাকা (সকল ভাতা সহযোগে) থেকে আয় শুরু করতে পারেন যেখানে প্রাইভেট হাসপাতালগুলি আপনাকে মাসে ২০০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০০০ টাকা বেতন দিতে পারে।

• স্নাতকোত্তর ডিগ্রী ধারীরা ২০০০০ টাকা থেকে তাদের আয় শুরু করতে পারেন।

• ডেন্টাল সার্জনগণ নিজেদের প্রাকটিসের মাধ্যমে ভাল অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

• কসমেটিক ফিলিং এর জন্য রোগীর সমস্যার ধরণভেদে পরামর্শ ফি কম পক্ষে ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

 

নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান


 

প্রতিরক্ষা ডেন্টাল কেন্দ্র সমুহ,বহু সুযোগ সুবিধা সংবলিত হাসপাতাল সমুহ, দন্ত বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকে, সরকারি ডেন্টাল অধিদপ্তর, এবং ডেন্টাল সুবিধা প্রদান কারি সরকারি সেক্টর সমুহে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।

 

কিভাবে এ পেশায় আসবেন


 

How-do-I-get-there

 

 

 

 

ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (BDS)

একটি কেন্দ্রিয় পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদেরকে মেডিকেল এবং ডেন্টাল কোর্সের জন্য বাছাই করা হবে।

এই টেস্ট হল একটি জাতীয় বাছাই টেস্ট যা মেডিকেল এবং ডেন্টাল কোর্সে ভর্তির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তিক পরিচালিত হয়।
যোগ্যতা:পাবলিক/প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান(পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যাসহ) পরীক্ষায় ঐ বছর বা শুধু মাত্র আগের বছর উত্তীর্ণরা আবেদনের সুযোগ পাবে। প্রার্থীকে এই দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ থাকতে হবে ৮। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫-এর কম থাকলে আবেদন করা যাবে না।উপজাতীয় এবং পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয়দের জন্য অবশ্য মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.০ এবং এককভাবে একটি পরীক্ষায় জিপিএ ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে। তবে সব প্রার্থীদের জন্যই এইচএসসি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩.৫০ পেতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dghs.gov.bd থেকে ভর্তি সংক্রান্ত আরও তথ্য জানা যাবে।

প্রার্থী মূল্যায়ন ও ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন

সর্বমোট ২০০ নম্বরের মধ্যে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় রয়েছে ১০০ নম্বর এবং বাকি ১০০ নম্বর রয়েছে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। পরীক্ষার্থীর এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএকে গুণ করা হবে ৮ দিয়ে এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএকে গুণ করা হবে ১২ দিয়ে। উভয় পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫.০ করে থাকলে এই অংশে ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বরই পাবে পরীক্ষার্থী। বাকি ১০০ নম্বর এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ

এই পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েজ কোশ্চেন) প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাত্ ৪টি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে অতিরিক্ত ১ নম্বর কমে যাবে। ভর্তি পরীক্ষার ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে পদার্থবিদ্যা থেকে থাকবে ২০টি প্রশ্ন, রসায়নবিদ্যা থেকে থাকবে ২৫টি প্রশ্ন, জীববিদ্যা থেকে থাকবে ৩০টি প্রশ্ন, ইংরেজি থেকে থাকবে ১৫টি প্রশ্ন এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে থাকবে ১০টি প্রশ্ন। প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্ন করা হবে এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস থেকে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের জন্য সম্ভাব্য দেওয়া উত্তরের মধ্যে একাধিক উত্তর সঠিক থাকতে পারে, আবার কোনো সঠিক উত্তর নাও থাকতে পারে। সঠিক উত্তর না থাকলে ওই প্রশ্নে কোনো উত্তর দাগানো যাবে না। আবার একাধিক সঠিক উত্তর থাকলে সবগুলোই অপশনের বৃত্তই ভরাট করতে হবে।

 

Untitled-1

Share Button
পড়া হয়েছে 1,717 বার

Back to Top