অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষা

 

Untitled-1অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দেশের অর্থনীতি,সামাজ,সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উচ্চ শিক্ষায় টাকার যোগান অস্ট্রেলিয়ান সরকার দেয়। উল্লেখ্য যে, ২০০৫ সালে সরকার উচ্চ শিক্ষার জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা মোটামোটি উন্নত এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এখানে অনেক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। বেশ কিছু কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার গুণগত মানের জন্য বিশ্বব্যাপি পরিচিত। এখানে উচ্চ শিক্ষায় বৈদেশিক ছাত্র প্রোগ্রাম বা Overseas Student Program (OSP) চালু আছে যা বাহির থেকে আগত ছাত্রদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়। বিদেশি ছাত্ররা প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা খন্ডকালিন বা পার্ট টাইম কাজ করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। অনেক ধরণের কোর্স এবং প্রোগ্রাম আছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কমনওয়েলথ সহযোগিতা প্রোগ্রাম চালু আছে। প্রোগ্রাম পরিকল্পনার মধ্যে আছে কমনওয়েলথ গ্র্যান্ট স্কিম,উচ্চ শিক্ষায় ঋণ প্রোগ্রাম( HELP), গবেষণা এবং গবেষণা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বল্প সংখ্যক একই মানে উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গুলো নিজেদের কোর্স নিজেরাই বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ান কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক(AQF), যারা একটি পরিচালনা পর্ষদ উচ্চ শিক্ষার সব স্তরকে (উভয় উচ্চতর এবং ভোকেশন্যাল শিক্ষা) দক্ষতর করে তোলার চেষ্টা করে থেকে।যাতে সার্টিফিকেটের লাভের চেয়ে সত্যিকারের ডক্টরেট হতে পারে।যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের কোর্স নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে,তাই AQF প্রাধানত ভোকেশনাল কোর্স গুলো নিয়ে কাজ করে।

অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চ শিক্ষা শেষ করার পর কোর্সের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ডিগ্রী যেমনঃ সার্টিফিকেট,অনার্স বা ডিপ্লোমা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ডিগ্রী।কোর্সের জন্য সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা এবং এসোসিয়েট ডিগ্রী প্রদান করা হয় যা শেষ করতে ১ থেকে ২ বছর সময় লাগে। সাধারনত,Technical and further education(TAFE) বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে তারা মূলত এই ডিগ্রী অফার করে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত এই সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা অন্য ডিগ্রীর পাশাপাশি প্রদান করে। ৩/৪ বছর পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর ব্যচেলর ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

 

উচ্চশিক্ষার গন্তব্যস্থল হিসেবে জনপ্রিয়তার কারণ

শ্রেষ্ঠতাঃ বিশ্ব সেরা শিক্ষা মান।

স্বীকৃতিঃ যোগ্যতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং চাকরির ক্ষেত্রে বা পরবর্তী পড়াশোনায় গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে।

নমনীয়তাঃ একাধিক প্রতিষ্ঠান নানান ধরণের কোর্স অফার করে নমনীয় পদ্ধতিতে।

সুরক্ষাঃ সরকার আইন ও আচরবিধির মাধ্যমে এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখে।

মুল্যঃ প্রতিযোগিতামুলক শিক্ষার ফি এবং স্বল্প বাসস্থান খরচের সমন্বয়-ই প্রকাশ করে ওখানে টাকার মান ভালো।

জীবন যাপনের ধরনঃ অনুকূল জলবায়ু, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল পরিবেশ পাশাপাশি আকর্ষণীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ পড়াশোনার জন্য অনুকূল।

বহু সংস্কৃতিঃ আস্ট্রেলিয়ার বহু-সংস্কৃতির সমাজে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত।

সহযোগিতাঃ অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য সহযোগিতা নেটওয়ার্ক আছে।

কাজ/ঘুরাঘুরিঃ পড়াকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ এবং ঘুরাঘুরি করার সুযোগ আছে।

 

বেশিরভাগ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানত যে ধরণের যোগ্যতা চায়

স্নাতক

ব্যাচেলর ডিগ্রিঃ সাধারণত এই লেভেলে প্রফেশনাল ক্যারিয়ার ও মাস্টার্স পড়ার জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং নুনতম ৬ সেমিস্টার পর্যন্ত ফুল টাইম পড়াশোনা করতে হয়। অনার্স করার জন্য অস্ট্রেলিয়ান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট কোর্স (১২ বছর) বা সমমানের আন্তর্জাতিক ডিগ্রী অথবা ভোকেশনাল শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (VET) থেকে ডিপ্লোমা বা এডভান্স ডিপ্লোমা করা থাকতে হবে।

ব্যাচেলর ডিগ্রী (অনার্স)ঃ একটির যোগ্যতা ঐচ্ছিক হতে পারে, ডিগ্রী অনুসারে অতিরিক্ত অধ্যয়ন বছর লাগতে পারে অথবা চার বা তার অধিক বছরের একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য প্রদান করা হতে পারে।

স্নাতকত্তর/ মাস্টার্স

গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমাঃ সাধারণত নির্দিষ্ট ভোকেশনাল বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। কোর্সটি হয় আপনার অনার্স প্রোগ্রামের দক্ষতা ও জ্ঞনের পরিধিকে আরো বাড়াবে অথবা নতুন কোন পেশাদার এরিয়ার বৃত্তিমূলক দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়াবে। গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেটের জন্য ৬ মাস ফুল টাইম স্টাডি করতে হবে এবং গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমার জন্য ১২ মাস ফুল টাইম স্টাডি করতে হবে। কোর্সটি করার জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রী বা এডভান্স ডিপ্লোমা করা থাকতে হবে।

মাস্টার্স ডিগ্রীঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয় বা পেশাদার অনুশীলনের সাথে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রদান করা হয়। সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রীর পরে ১ বা ২ বছর পড়াশোনার সাথে যুক্ত থাকতে হয়।

মাস্টার্স ডিগ্রী প্রধানত ৩ পদ্ধতিতে অফার করা হয়ঃ

কোর্সওয়ার্ক মাস্টার্সঃ কোর্সওয়ার্ক মূলত প্রোজেক্টের কাজ এবং নানান গবেষণার সমন্বয়ে গঠিত। কোর্সটি করতে হলে ব্যাচেলর ডিগ্রী (অনার্স) বা গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা শেষ করতে হবে।

গবেষণায় মাস্টার্সঃ এই কোর্সে নুন্যতম দুই-তৃতিয়াংশ গবেষণার একটি শক্তিশালী গবেষণা প্রবন্ধ করতে হবে, যার বাহিরে মূল্য আছে। কোর্সটি করার জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রী (অনার্স) বা মাস্টার্সের প্রাথমিক বছর,গবেষণা ধর্মী গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সমমানের গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
প্রফেশনাল মাস্টার্সঃ প্রোগ্রামটি কাজ ভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে গঠিত। কোর্সটির জন্য প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা বা ব্যাপক প্রাসঙ্গিক পেশাগত অভিজ্ঞতা চাইতে পারে।
ডক্টরেট ডিগ্রীঃ প্রদত্ত একটি বিষয়ে জ্ঞনের নতুন আকার বা অভিযোজন, প্রযোগ এবং প্রচলিত জ্ঞানের ব্যাখ্যায় স্বীকৃত অবদান রাখতে হবে।

ডক্টরেট ডিগ্রী ২ পদ্ধতিতে অফার করা হয়ঃ

গবেষণায় ডক্টরেটঃ এখানে মূলত গবেষনার কাজের দেখভাল করতে হবে। মাস্টার্স বা ব্যাচেলর ডিগ্রীতে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করা থাকতে হবে।

প্রফেশনাল ডক্টরেট: কোর্সওয়ার্ক এবং গবেষণার সমন্বয়ে গঠিত। কোর্সটি করার জন্য সমন্বিত গবেষণা এবং কোর্সওয়ার্ক মাস্টার্স ডিগ্রী বা ব্যাচেলর (অনার্স) করা থাকতে হবে। উপরন্তু, কোর্স করার আগে বা কোর্স করা কালীন সময়ে বিবেচনাযোগ্য পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ভর্তির মৌসুম

ভর্তি সাধারণত কোর্সের উপর নির্ভর করে হয়। উচ্চশিক্ষার কোর্সগুলো মূলত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে নভেম্বারের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে। শিক্ষাবর্ষ প্রধানত ২ সেমিস্টারে বিভক্ত, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ৩ সেমিস্টার বা ডিসেম্বার থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন স্কুল অফার করা হয়।

অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্সওয়ার্কের ছাত্রদের বছরের শুরুতেই (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) কোর্সের জন্য নিবন্ধন করতে হবে কিন্তু আবেদন করতে হবে প্রতি বছরের শেষ দিকে। কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোন কোর্সে বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিবন্ধ ও প্রবেশ (জুলাই) করা যায়। যে সকল ছাত্রছাত্রী ভবিষ্যতে ডক্টরেট বা গবেষনাধর্মী পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক তারা চাইলে ভাতা এবং শুরুর তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রোজেক্ট সুপারভাইজারের সাথে মধ্যস্থতা করতে পারেন।

কোর্সের গড় খরচ

১. ব্যাচেলর ডিগ্রীঃ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে খরচ হবে প্রায় ১০,০০০-১৬,০০০ ডলার (যেমনঃ আর্টস,হিসাব বিজ্ঞান,ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা এবং আইন বিষয়ক কোর্সগুলোর জন্য)।

২. ল্যাবরেটরি ভিত্তিক ব্যচেলর ডিগ্রীঃ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে খরচ হবে প্রায় ১১,০০০-২০,০০০ ডলার (যেমন বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোর ক্ষেত্রে)।

৩. গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট/ডিপ্লোমাঃ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে খরচ হবে প্রায় ৯,০০০-১৬,০০০ ডলার।

৪. মাস্টার্স এবং ডক্টরেট ডিগ্রীঃ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে খরচ হবে প্রায় ১১,০০০-২০,০০০ ডলার।

Share Button
পড়া হয়েছে 907 বার

Back to Top