অস্ট্রেলিয়ান প্রথা এবং শিষ্টাচার বা আদবকায়দা

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের সময় নিম্নলিখিত আচার ব্যবহার এবং শিষ্টাচার মেনে চলতে হবেঃ

সভা বা সাক্ষাত সময়ের শিষ্টাচার

 
• অস্ট্রেলিয়ানরা তেমন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করে না।তাই স্বাচ্ছন্দ্য এবং সাধারণ রীতিতে শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।

• কর্মদন ও হাসিই যথেষ্ট।

• অস্ট্রেলিয়ানরা ‘জি ডে’ বা ‘জি ডে’ মেট বলে বিদেশি বা ফরেনারদের উৎসাহ দেয়ার জন্য।
প্রতিউত্তরে ভিজিটররা ‘হ্যালো’ বা ‘হ্যালো’, কেমন আছেন? বলতে পারেন।

• আস্ট্রেলিয়ানরা প্রথম সাক্ষাতেই ফার্স্ট বা প্রথম নাম ধরে সম্বোধন করতে পছন্দ করে।

খাবার টেবিল বা ডাইনিং শিষ্টাচার
 
• অস্ট্রেলিয়ান বাড়িগুলোতে বেশির ভাগ নিমন্ত্রণই থাকে বার বি কিউ পার্টির জন্য।

• অনেক সময় বার বি কিউ পার্টিতে আমন্ত্রিত অতিথিরা ব্যক্তিগত ভোগের জন্য
বিয়ার বা ওয়াইন নিয়ে আসে। কিছুক্ষেত্রে, অনানুষ্ঠানিক বার বি কিউ পার্টিতে নিজেকেই মাংস নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

• রাতের খাবারের নিমন্ত্রন থাকলে সঠিক সময়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন এবং বার বি কিউ বা অন্য কোন বড় পার্টিতে ১৫ মিনিটের বেশি দেরি না করার চেষ্টা করুন।

• আমন্ত্রণকারীর খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোন সহযোগিতা প্রয়োজন আছে কিনা তা নিজে থেকে জিজ্ঞেস করুন।

• খাবার পরিবেশনের সময় এবং পরিবেশনের পর আমন্ত্রণকারীকে সাহায্য করার অফার করুন।

টেবিল শিষ্টাচার
 
• টেবিল শিষ্টাচার মহাদেশীয়–খাওয়ার সময় বাম হাতে কাঁটা চামচ এবং ডান হাতে ছুরি ধরুন।

• ছুড়ি এবং কাটাচামচের হাতল ডান দিকে নির্দেশ করে প্লেটের উপর সমান্তরালভাবে রাখাটা আপনার খাওয়া শেষ হয়েছে এমনটা ইঙ্গিত করবে।

• খাবার সময় আপনার কনুই টেবিলের বাহিরে এবং হাত টেবিলের উপর রাখবেন।

ব্যবসায়িক শিষ্টাচার

 
• এপোয়েনমেন্ট বা আগে থেকে সাক্ষাতের সময়সুচি ঠিক করে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সিডিউল তৈরির জন্যও সহজ।

• যতটা সম্ভব একজন আরেকজনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে দেখা করা উচত।

• ব্যবসা ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা রক্ষা করাটা খুব জরুরি। কাউকে অপেক্ষা করানোর থেকে সাক্ষাত সময়ের কিছুক্ষণ আগে উপস্থিত থাকাটা ভালো।

• সাধারনত মিটিং নিরুদ্বেগ বা আরামদায়কভাবে হয়, জরুরি ইভেন্টের সময়েও।

• অস্ট্রেলিয়ানরা যদি আপনার বলা কিছু ব্যতিক্রম হিসেবে নেয় তাহলে তারা আপনাকে সে সম্পর্কে জানাবে।

• প্রেজেন্টেশন তৈরির সময় প্রতারনা ও অতিরঞ্জিত দাবি এড়িয়ে চলুন।

• আপনার বিজনেস কেস ঘটনা এবং পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে প্রেজেন্ট করুন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসার পরিবেশে আবেগ বা অনুভূতি তেমন গুরুত্ব বহন করে না।

মধ্যস্থতা বা সমঝোতা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া

 
• অস্ট্রেলিয়ানরা খুব স্বল্প কথায় ব্যবসায় নামে।

• তারা সরাসরি কথা বলে এবং অন্যদের কাছেও একই ব্যবহার প্রত্যাশা করে। তারা সাহসিকতাকে বাহবা দেয় এবং বেশি বর্ণনা বা ডিটেইল পছন্দ করে না।

• দ্রুত সমঝোতা সম্ভব। দরকষাকষি গতানুগতিক না।তারা আশা করে আপনার প্রাথমিক প্রস্তাবে খুব সল্পই সমঝোতার সুযোগ থাকবে।

• আস্ট্রেলিয়ানরা বেশি চাপ সৃষ্টি করে এমন কৌশল পছন্দ করে না।

• কোম্পানির উপরের লেবেলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যদিও অধস্তনদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে, সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রকৃয়া হয় ধীর এবং সুরক্ষিত।

পোশাক কোড
 
• মেলবন এবং সিডনিতে ব্যবসায়ের পোশাক রক্ষণশীল।

• ছেলেদের গারো রঙের রক্ষণশীল স্যুট পরা উচিত।

• মেয়েদের স্মার্ট বা বিজনেস স্যুট পরিধান করা উচিত।

• ব্রিসবেন এবং অন্যান্য ক্রান্তীয় অঞ্চলে, কাজের ধরন ও কোম্পানির সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে ছেলেরা শার্ট, টাই এবং বারমুডা শর্টস পরে।

বিজনেস বা ভিজিটিং কার্ড
 
• কোন প্রথাগত অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রাথমিক সাক্ষাতেই বিজনেস কার্ড বিনিময় হয়।

• আপনি যদি বিজনেস কার্ড না দেন তবে এটা অপমান হিসেবে বিবেচিত হবে না।

যোগাযোগ এবং সম্পর্ক

 
• ব্যবসা ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য ফ্যাক্ট বা ঘটনা খুব বড় ব্যপার। ব্যবসা করার জন্য দীর্ঘ ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রয়োজন নেই।

• তারা সরাসরি যোগাযোগে করতে ভালোবাসে।

• তাদের কথায় রসবোধ এবং বিনয়ীভাব থাকে।

• আস্ট্রেলিয়ানরা প্রায় রঙচঙে ভাষায় কথা বলে যা অন্য দেশের জন্য চিন্তা করাটাও অভাবনীয়।

Share Button
পড়া হয়েছে 402 বার

Back to Top