মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা

দেশের প্রায় সব জায়গায় নিজের সুবিধামত বাহনে ঘুরে বেড়ানো সবসময় সহজ না। তবে,ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু ধরন যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে যেমনঃ বিমান, রেল, বা সড়ক। প্রতিটি ব্যবস্থা দক্ষ, সুবিধাজনক, এবং সাশ্রয়ী।

মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং ১,৬৩০ কি.মি. এক্সপ্রেসওয়ে সহ ৬৩,৪৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক ব্যবস্থা আছে। প্রধান সড়ক ৮০০ কিলোমিটার প্রসারিত যা থাই সীমানা এবং সিঙ্গাপুরকে সংযুক্ত করে। পরিবহন ব্যবস্থাঃ ট্রেন, বাস, গাড়ি এবং এ্যারোপ্লেন।

পূর্ব মালয়েশিয়ার পরিবহন ব্যবস্থা খুব উন্নত না। কিন্তু পেনিনসুলার মালয়েশিয়ায় উন্নত এবং সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থা আছে।

ছয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাধ্যমে বেশিরভাগ শহর এয়ারওয়েজের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স (MAS)মালয়েশিয়ার সরকারী বিমান পরিবহন সংস্থা যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় সেবাই প্রদান করে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন সেবাও প্রদান করে।

মালয়েশিয়ায় পরিবহন ব্যবস্থা চমৎকার এমনকি খুব দূরবর্তী এলাকায়ও ভাল যা বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা দ্বারা সংযুক্ত।রাজধানী শহর, কুয়ালালামপুর পরিবহনের প্রধান কেন্দ্রস্থল।

মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন

শহর ভ্রমণের জন্য পরিবহণ হিসেবে বাস সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল। শহরের মধ্যে এবং বাইরে বিভিন্ন জায়গায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস আছ। অ-শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সাধারণত ছোট শহর চালানো হয়।

আন্তঃ রাষ্ট্র সংযোগ বাস ভ্রমণ চার্জ নির্দিষ্ট কিন্তু শহরে চলাচলের জন্য দূরত্ব অনুযায়ী বাস চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

শহরের ট্যাক্সি মিটারে চালানো হয় যেখানে ছোট এলাকার বা আন্ত রাষ্ট্র ট্যাক্সির নির্দিষ্ট চার্জ আছে।তাই, ট্যাক্সি নেয়ার আগে চুক্তি চূড়ান্ত করে নেয়া সবসময় ভাল।
বেশ কিছু গাড়ি-হায়ার পরিষেবা সহজলভ্য যেমনঃ আন্তর্জাতিক “এভিস”। এর অর্থ আপনি একটি শহর থেকে একটি গাড়ী ভাড়া করে তা নিজে ড্রাইভ করে অন্য শহরে যেতে পারেন এবং আগে থেকে নির্দিষ্ট স্টপেজে গাড়ী ছেড়ে দিতে পারেন।গাড়ি ভাড়া করার জন্য স্বাভাবিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। আপনার চমৎকার একটি রাস্তার মানচিত্র, একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, এবং বীমার প্রয়োজন। অনেক কোম্পানি ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট গ্রহণ করে। আপনার ট্রাভেল এজেন্ট বা হোটেল আপনাকে আরো বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করতে পারেন।

মালয়েশিয়ার রেল ব্যবস্থা

মালয়ের রেল বা কেরেটাপি তানাহ মালায়াউ বেরহাদ (KTM) সমস্ত প্রধান শহর / নগর সাথে পেনিনসুলার মালয়েশিয়া সংযোগ করে।যে কেউ রেলে চড়ে পেনিনসুলার মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করে আসতে পারেন। ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি কামড়া এবং ইকোনমিক কোচ আছে।
দ্যা এক্সপ্রেস লেংকাউ (Ekspres Langkawi) প্রতিদিন কুয়ালালামপুর এবং আরাউ (Arau) এ যাতায়াত করে। এই ট্রেন রাত্রে ছাড়ে এবং সকালেবেলা আরাউ পৌঁছে এবং তারপর হাতাই( Hatyai), থাইল্যান্ড ঘুরে আবার সন্ধ্যায় আরাউ ফিরে আসে।

দ্রুতগামী ট্রেনে স্থানীয় এবং মহাদেশীয় খাবারে রেস্টুরেন্ট সেবা পাওয়া যায়। এই ট্রেনের টিকেট ৬০ দিন আগে বুক করে রাখতে হয়। ১২ বছরের নিচের শিশুদের ভ্রমণের অর্ধেক টাকা দিতে হয় এবং ৪ বছরের নিচে শিশুরা বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারেন। পর্যটকরা ১০ এবং ৩০ দিনের রেলপাস পাওয়া যায় যা দিয়ে ইচ্ছেমত ভ্রমণ করা যায়।
সেনান্ডাওং মালাম(Senandung Malam) কুয়ালালামপুরকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এবং রাতের ভিত্তিতে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে বাটারওয়ারথকে (Butterworth) সংযোগ করে।প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কামরায় রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থা আছে অর্থাৎ স্লিপিং বাথ আছে।

মালয়েশিয়ার মোনোরেল ব্যবস্থা

কুয়ালালামপুরে মোনোরেল সহ পাবলিক পরিবহন শহরের কেন্দ্রে ৮.৬ কিমি দূরত্ব কাভার করে এবং ১১ টা স্টেশনে সেবা দেয়। প্রধান শপিং সেন্টার যেমনঃ বুকিট বিন্টাং (Bukit Bintang), ইম্বি(Imbi) এবং চীনা কিট একটি মাত্র লাইনের বা একক রেলপথ দ্বারা পরিচালিত হয়। এটা কুয়ালালামপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে টিটিওয়াংসা(Titiwangsa) স্টেশন পর্যন্ত প্রসারিত।

মালয়েশিয়ার সমুদ্র পরিবহন

মালয়েশিয়ায় পাঁচটি পোর্ট বা বন্দর আছে যেমনঃ পেনাং, পোর্ট ক্লাং, কুয়ান্টান, কুচিং এবং কোটা কিনাবলু। সারা দেশে মূল ভূখন্ড থেকে দ্বীপে এবং দ্বীপ থেকে দ্বীপে ফেরি বা নৌকায় ভ্রমণ করা যায়। পেনাং এবং বাটারওয়ারথের (Butterworth) মধ্যে এই ফেরি যাত্রী ও যানবাহন উভয়ই বহন করে। বিচ্ছিন্ন জনবসতিতে যাওয়ার জন্য নৌকা খুব ভালো বাহন। তারা সাবাহ এবং সারাওয়াকে যাওয়ার জন্যও সেরা উপায়।

ছুটির দিনে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সংযোগ স্থাপন করতে প্রমোদনভ্রমণের ব্যবস্থা আছে। দেশের মধ্যে ভ্রমণের জন্য স্থানীয় এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত অনেক সমুদ্র ভ্রমণ সেবা আছে।
বেশকিছু দ্বীপপুঞ্জে ফেরিতে ভ্রমণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় Langkawi।ফেরি দিয়ে যাওয়া যায় এমন আরো দুইটি দ্বীপ আছে। একটি হচ্ছে কুয়ালা Perlis বা কুয়ালা কেদাহ অন্যটি পংগকর।

মালয়েশিয়ায় বিমানে যাত্রা

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সেপাং (Sepang) এ অবস্থিত। মালয়েশিয়ার নিজস্ব বিমান সংস্থা সহ আরো ৪০ টি এয়ারলাইন্স এই বিমানবন্দরে আসা যাওয়া করে।
যাত্রীরা চাইলে কেএলআইএ (KLIA) থেকে সাবাহ এবং সারাওয়াক সহ মালয়েশিয়ায় প্রধান শহরগুলোতে যাতাযতের জন্য বিমান পরিষেবা নিতে পারেন।পুরাতন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অর্থাৎ সুলতান আব্দুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর, সুবাং এ অবস্থিত, যা প্রায় ৪৫ মিনিট দূরে,কুয়ালালামপুরের পশ্চিমে অবস্থিত। শুধুমাত্র দেশে ভিতরে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ বিমানবন্দর ব্যবহৃত হয়।

Share Button
পড়া হয়েছে 467 বার

Back to Top