মালয়েশিয়ায় বসবাস

একটি সদ্য শিল্পোন্নত দেশের থাকার খরচ যেমন হওয়া উচিত মালেশিয়ায় বসবাসের খরচ ঠিক তেমন। মুদ্রা অবচয়ের কারণে, পণ্য এবং হাউজিং এখানে অনেক সস্তা। রাজধানী কুয়ালালামপুর কাপড়,যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য কেনাকাটার স্থানে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসীরা যদি তাদের প্রয়োজনের জন্য নতুন গাড়ি বা অন্য কোন আইটেম দেশের বাইরে থেকে আনে তাহলেও মালয়েশিয়ার সরকারকে টেক্স দিতে হবে না। এছাড়া ব্যাংকগুলো হাউজিং এবং ব্যবসার জন্য ঋণ দিয়ে থাকে।বর্তমানে মালয়েশিয়ার জিডিপির পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশী।মালয়েশিয়ার অর্থনীতির প্রজেক্টেড জিডিপি বৃদ্ধির হার ৫.৩%।

এন্ট্রি যোগ্যতা- বৈধ পাসপোর্ট

সাধারণত পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাসের কম হলে ভিজিটরদের মালেশিয়ায় প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।

ভাষা

মালয়েশিয়ার জাতীয় ভাষা ‘বাহাসা’। যেহেতু একসময় মালয়েশিয়ায় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল তাই ইংরেজির ব্যবহার প্রচলিত, বিশেষ করে শহরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ম্যান্ডারিন ও তামিল ভাষায় কথা বলে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেছে,পাশাপাশি পাবলিক স্কুলের সাথে আঞ্চলিক স্কুলের প্রচলন আছে মালেশিয়ায়।

খাদ্য

মালয়েশিয়া খাবারের বৈচিত্র্যতা এবং মানের জন্য সুপরিচিত। শপিং মলে প্রবেশের সাথে সাথে আপনি পেয়ে যাবেন স্থানীয় মালয়, চীনা এবং ভারতীয় স্বাদের খাবারের ক্রস সেকশন।আরো পাবেন আন্তর্জাতিক মানের ইতালিয়ান,জাপানিজ এবং মধ্য প্রাচ্যের রন্ধনশালা। চমৎকার ডাইনিং বা ফাস্ট ফুড চেইন আপনাকে আকর্ষণ করবে।

আর্থিক বিষয়

মালয়েশিয়ায় খাদ্য খরচ এবং পানীয়

• মালয়েশিয়ার পোল্ট্রি পণ্য অন্য দেশে তুলনায় অনেক সস্তা।

• দুধ এবং চা খুব সাশ্রয়ী মূল্যের মূল্য পাওয়া।

মালয়েশিয়ায় পোশাক এবং আনুষাঙ্গিক খরচ

• সস্তা ও পুরনো জিনিসপত্রের খোলা বাজার এবং রাতের বাজারের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য বিক্রি হয়।

• স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য মানে উচ্চ কিন্তু দামে সস্তা, ঐতিহ্যগত এবং আধুনিক জিনিসপত্র খুব সহজেই পাওয়া যায়।

মালয়েশিয়ায় আবাসন খরচ

• আবাসন খরচ খুব কম এমনকি প্রধান শহরগুলোতেও।

• নিজস্ব সম্পত্তি এবং খোলামেলা জায়গার জন্য সাধারণত মানুষ শহরতলিতে বাস করতে পছন্দ করে।

বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে তুলনায় মালয়েশিয়ায় বসবাস তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। মালয়েশিয়ায় করের হার খুব কম এবং মুদ্রার অবচয়ের কারনে বাসস্থান, খাদ্য,ভ্রমণ খুব কম টাকায় করা যায়।

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

১। কোনো ধরনের ড্রাগসের সঙ্গে জড়িত না হওয়া উচিতঃ এমনকি খুব কম পরিমাণে ড্রাগসের অধিকারী হলেও কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

২। মালয়েশিয়া বহু সংস্কৃতির দেশ হলেও মূলত মুসলিম প্রধান।তাই,স্থানীয় সামাজিক নিয়মাবলীগুলোকে সম্মান করা উচিত।সবসময় সচেতন থাকা উচিত যেন আপনার কোন কাজের দ্বারা অন্যান্য সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত না লাগে বিশেষ করে রমজান বা পবিত্র মাসে, পাশাপাশি ধর্মীয় এলাকা পরিদর্শনের সময়ও সচেতন হতে হবে।

৩। ব্যাগ ছিনতাই এখানে খুব সাধারণ ঘটনা।মোটরবাইক থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। তাই বাহিরে যাওয়ার সময় মূল্যবান দ্রব্যাদি নেয়া থেকে বিরত থাকুন।কাঁধে ঝোলান যায় এমন ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় হাঁটার পরিবর্তে ফুটপাথে হাঁটা ভালো। ব্যাগের ফিতা ধরে টান দেয়ার ফলে বহু মানুষ মাটিতে পড়ে আহত বা মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।আপনার ব্যাগ যদি ছিনতাই হয়ে যায় তবে দেরি না করে পুলিশে অভিযোগ করুন।

৪। সর্বদা আশেপাশের পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকবেন।

৫। আপনার জিনিসপত্র বিশেষ করে পাসপোর্টের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন।মনে রাখবেন আপনার পাসপোর্ট বিমান, ক্যাফে, বিমানবন্দর,রেল টার্মিনাল এবং হোটেল কক্ষ থেকে চুরি হতে পারে।

৬। অপরিচিত কারো দেয়া পানীয় পান করবেন না যদি সেটা কোন বিখ্যাত রেস্তোরা বা বারও হয়। স্পিকড ড্রিংক্সের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে এবং যার ফল স্বরূপ ডাকাতি বা হামলার শিকার হতে পারেন।

৭। অপরিচিত কাউকে হোটেল রুমে প্রবেশ করতে দিবেন না যদি হোটেল ইউনিফর্ম পরা থাকে তবুও না, বিশেষ করে রাতে। একা ভ্রমণরত মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রযোজ্য।

৮।ক্রেডিট কার্ড এবং এটিএম জালিয়াতি ব্যাপক। ক্রেডিট কার্ড বা এটিএম ব্যবহারের সময় সচেতন হন। কার্ড নকল এবং স্কিমিং ডিভাইস এটিএম যোগ করার অনেক দৃষ্টান্ত আছে।

৯।আপনি যদি গাড়ি, মোটরসাইকেল বা কোনো যন্ত্রচালিত পানিতে খেলাধুলার সরঞ্জাম ভাড়া করতে চান তবে আপনার ভ্রমণ বিমাকারীর সাথে কথা বলে পরীক্ষা করে নিন এটি আপনার বীমা নীতির আওতায় পড়ে কিনা।

১০। ধর্মীয় স্থান এবং গ্রামাঞ্চলে ভ্রমণের সময় পোশাক সম্পর্কে সচেতন হন।

১১। আপনি যদি মুসলিম হন তবে আপনিও স্থানীয় শরিয়া আইনের আওতায় পরতে পারেন।

১২। যদি মালয়েশিয়া ভ্রমণের আগে আপনি ড্রাগস ব্যবহার করেন এমন সন্দেহের আওতায় পড়ে যান তবে ওখানে পোঁছানোর পর আপনার ইউরিন পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষা পজেটিব হতে হবে না হলে আপনাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাবে বা দেশ থেকে বের করে দিবে।

১৩। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ আমদানি নিষিদ্ধ এবং বহন করার শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

১৪। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এর ফলে ওয়ার্ক পারমিট হিসাবে অভিবাসন ডকুমেন্ট খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায় নি বা আপনি এন্ট্রির কোন নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।এমনটি হলে জরিমানা,শাস্তি বা দেশ থেকে বের করে দিতে পারে।

১৫। ভ্রমণ করার আগে ব্যাপক ভ্রমণ ও চিকিৎসা বীমা করানো উচিত। চেক করুন কিছু বাদ পড়লো কিনা এবং আপনি করতে চান এমন সব কাজ আপনার পলিসি কাভার করেছে কি না।

Share Button
পড়া হয়েছে 483 বার

Back to Top