বিদেশে অধ্যয়নের প্রস্তুতি

Apply

 

বিদেশে অধ্যয়নের জন্য প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অংশ – শুধু শারীরিক প্রস্তুতি নয় সাথে মানসিক প্রস্তুতিও । দৈহিক প্রস্তুতি বিভ্রান্তিকর এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আপনাকে অনেক কিছু মনে রাখতে হবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তা প্যাক করতে হবে। একবার সেখানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নতুন জায়গায় স্যাটেল হয়ে গেলে, আপনি আপনার জীবনের জন্য অনেক সময় পাবেন, কিন্তু যাবার আগের সপ্তাহ কেবল প্যাকিং এবং পরিকল্পনা করার সময় ।

আগে…

বিজ্ঞতার সঙ্গে প্যাক

শুধুমাত্র তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় জিনিস প্যাক করুন। পুরো সেমিস্টারের জন্য প্যাক করার চেষ্টা করবেন না। এটা অকারণে আপনার লাগেজের ওজন বাড়াবে। স্থানীয় জলবায়ু চেক করতে ভুলবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় শহরের গড় আবহাওয়ার পূর্বাভাস আপনাকে আপনার সেমিস্টারের সময় কি ধরনের আবহাওয়া আশা করবেন তা বুঝতে সাহায্য করবে। আপনি যদি ভারী উলের পোশাক প্রয়োজন মনে করেন, এটি দেশ থেকে কেনার চেয়ে বরং হোস্ট দেশে কেনাটা বেশি যুক্তিযুক্ত। ভারী উলের পোশাক শুধুমাত্র অতিরিক্ত ওজনই বাড়াবে না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি আপনার নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ব্যবহারের সুযোগ নাও পেতে পারেন। প্রধান প্রধান সবগুলো অধ্যয়ন গন্তব্যস্থলগুলির কাছে সস্তা ও পুরনো জিনিসপত্রের খোলা বাজার এবং সস্তা শপিং সেন্টার থাকে। তা এছাড়াও স্থানীয়দের মত পরিধান করা যুক্তিযুক্ত যাতে আপনি স্টাইলের সঙ্গে মানাতে পারবেন এবং বহিরাগত মনে হবে না।

ডকুমেন্টেশন

একটি পাসপোর্ট এবং ছাত্র ভিসা একজন ছাত্রের জন্য অপরিহার্য নথি। এমনকি কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে আপনার পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত। যদি স্বাগতিক দেশে ভিসার প্রয়োজন হয়, আপনার যদি একটি পাসপোর্ট থাকে, আপনার জন্য এটি প্রসেস করা সহজ হবে। আপনার পাসপোর্ট এবং ভিসা ফটোকপি করুন এবং এক সেট দেশে আপনার পরিবারের কাছে, একটি ছাত্র উপদেষ্টার কাছে, এবং অন্তত দুই কপি আপনার সাথে রাখুন। মূলটি থেকে আলাদাভাবে রাখুন, তাতে এমনকি মূলটি হারিয়ে গেলে, ফটোকপি আপনাকে মূলটি প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে। ভ্রমণ ছাড়া মূলটি বহন করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল,আপনার বৃত্তি এবং আর্থিক সাহায্যের কাগজপত্র নিতে ভুলবেন না।

স্বাস্থ্য

বিদেশে যাওয়ার আগে, আপনার ডাক্তারকে দেখান। আপনার কোন শারীরিক সমস্যা নেই তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করুন। বিদেশে আপনার সব চিকিৎসা নথি বহন করতে ভুলবেন না, কারন কখন তাদের প্রয়োজন হবে সে বিষয়ে আপনি নিশ্চিত নন। পাশাপাশি মূল চিকিৎসার কাগজপত্র কপি করুন। যাবার আগে আপনি সব টীকা নিয়ে নিন এবং সেইসাথে আপনার টিকার রেকর্ড নিন। ঠান্ডা এবং ফ্লু জন্য ঔষধ এবং জরুরি ঔষুধ বহন করা উচিত।

বীমা

বিদেশে অধ্যয়নে যাবার আগে স্বাস্থ্য বীমা করা অপরিহার্য । জার্মানির মত দেশে, এটা প্রথম প্রয়োজনীয় বিষয় যা ছাড়া আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার করতে পারবেন না।

আর্থিক বিষয়

বিদেশে অধ্যয়নের জন্য আপনার বাজেট প্রস্তুত করুন। নির্দিষ্ট দেশে আপনার পড়ালেখার খরচ নিয়ে অনুসন্ধান এবং বিশ্লেষণ করুন। জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে জানুন এবং ভাড়া, ভ্রমণ, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের মত আপনার নির্দিষ্ট খরচগুলো নিরূপণ করুন। বিনোদন এবং কেনাকাটা জন্য আলাদা কিছু টাকা রাখুন।চেক এবং কার্ডের বদলে নগদ বহন করা ভাল।

আবাসন

বিদেশে পড়ালেখার প্রোগ্রামের জন্য আবেদনের সময় আপনার ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করা উচিত। ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও জানতে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেলের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

মানচিত্র, বই, পত্রিকা ….

আপনার শহরের মানচিত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মানচিত্র বহন করা উচিত। কিছু বই বহন করুন, যদিও তারা খুব ভারী কিন্তু ভ্রমণের সময় এবং আপনার কিছু ভাল বন্ধু না হওয়া পর্যন্ত, তারা শ্রেষ্ঠ সহচর হতে পারে।ভ্রমণ বই, গাইড বই এবং মানচিত্র যা আপনাকে সাহায্য করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই। বিশেষ করে আপনার রান্না সম্পর্কে কোন দক্ষতা না থাকলে,রেসিপি বই আপনাকে অনেক সাহায্য করতে পারে।

পরে …

আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও, কিছু প্রস্তুতি এবং আপনার থাকাকালিন সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখতে হবে। আরও জানতে নিচে পড়ুন।

আপনার কাজের প্রতি লক্ষ রাখুন

মনে রাখবেন ছাত্র, শিক্ষক এবং অন্যরা আপনাকে দেখছে।কোন নিয়ম ভঙ্গ করবেন না এবং আইন মেনে বাস করবেন।যাই আপনি করেন, মনে রাখবেন আপনার কর্ম শুধুমাত্র আপনার নয় বরং আপনার দেশ, আপনার স্কুল এবং আপনার পরিবারের ব্যপারে ধারনা দিবে।

শহর ভ্রমন

বাইরে যান এবং আবিষ্কারার্থ নতুন শহর ভ্রমন করুন।নির্দ্বিধায় বেরিয়ে পরুন চারপাশের মানুষ এবং জায়গা জানতে।একজন পর্যটকের মত আচরণ করবেন না এবং আপনার নিজের জায়গা মত আচরণ করুন।

যোগাযোগ

সহকর্মী ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন এবং পাশাপাশি অন্য বিদেশীদের সাথেও । আপনি যদি ইংরেজি ভাষা জানা দেশে যান, তাহলে আপনি আপনার দেশ থেকে ভাষা শিখে যাবেন নয়তো আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাষাশিক্ষা কোর্সে যুক্ত হবেন। বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী ছাত্রদের জন্য ভাষাশিক্ষা কোর্স অফার করে।

একটি বন্ধু রাখুন

বিশেষ করে রাতের বেলায় একটি নতুন জায়গায় একা ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। এতে আপনি নিরাপদ বোধ করবেন।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয় আসার পর এবং থাকার একটি উপযুক্ত জায়গা পাওয়ার পর,কোনো স্থানীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশে শাখা আছে এমন কোন ব্যাংকে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলার এটাই উপযুক্ত সময়।

স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যকুলতা দূরীকরন

বিদেশে অধ্যয়নের জন্য প্রস্তুতি ? যেমনটা আমরা আগে বলেছি শুধুমাত্র শারীরিক প্রস্তুতিই না আপনার মানসিক প্রস্তুতিরও প্রয়োজন। আপনি একটি বা কয়েকটি বছর বিদেশে অধ্যয়নের জন্য ব্যয়ের এবং নতুন বন্ধু তৈরির এবং নতুন কিছু শেখার প্রত্যাশায় হয়ত খুব উত্তেজিত হতে পারেন, কিন্তু আপনি হোস্ট দেশে পৌঁছানোর পর সম্ভবত, আপনি যা আশা করছেন তার তুলনায় তাড়াতাড়ি স্বদেশে ফেরার জন্য কাতর অনুভূতি শুরু হতে পারে।

যদি আপনার বিষণ্ণ বোধ হয় অথবা যদি আপনি উদ্বিগ্ন হন বা নেতিবাচক চিন্তা বা সাধারণত নির্লিপ্ত থাকেন, তার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হতে পারে স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যকুলতা। এখানে আপনার স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যকুলতা দূর করার কিছু উপায় দেয়া হল:

আপনিই কেবল একা না

আপনি যদি দেশকে মিস করেন, এতে লজ্জিত হবেন না। মনে রাখবেন, আপনি একাই স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যকুল না। আপনার মত অনেকেই তাদের বাড়ি, পরিবার এবং বন্ধুদের মিস করবে । খোলামনে বন্ধু, ছাত্র কাউন্সিলারস বা এমনকি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার দেশের পরিবার এবং বন্ধুদের মনে রাখবেন

আপনি স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যকুল বোধের চিন্তা এড়াবেন না। আপনার রুমে আপনি দেশে আপনার খুশির দিনের কিছু ফোটোগ্রাফ ঝোলাতে পারেন, একটি ব্লগ তৈরি করতে পারেন এবং সবসময় সংযুক্ত থাকুন। মেইল পাঠান, বন্ধুদের সাথে চ্যাট করুন এবং এমনকি কখনও কখনও তাদের কল করুন।

বন্ধু তৈরি করুন

নতুন বন্ধু তৈরি করুন, আপনার দেশের ছাত্রদের সাথে কথা বলুন বা শুধু শহর ঘুরতে বেড়িয়ে যান। আপনার জীবনযাত্রাকে বাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মত একটি নির্দিষ্ট রুটিন দ্বারা কঠিন করবেন না।বিশ্ববিদ্যালয় এবং পারিপার্শিক বিষয় বুঝতে স্থানীয় ছাত্রদের সঙ্গে মেলামেশা করুন।

ক্লাবে যোগ দিন

রিলাক্স করার একটি ভাল উপায় হল আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবে যোগ দিন। বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব যেমন-থিয়েটার ক্লাব, অ্যাডভেন্সার ক্লাব, মিউজিক ক্লাব, রিডিং ক্লাব, পরিবেশ ক্লাব এবং আরো অনেক ক্লাব আছে।

বিদেশে অধ্যয়নের মন্ত্র হল পরিকল্পনা করা, কর্মচঞ্চল হওয়া, যোগাযোগ এবং সবকিছুর উর্দ্ধে স্টাডি হার্ড, স্টাডি স্মার্ট!

Share Button
পড়া হয়েছে 382 বার

Back to Top