UK-তে শিক্ষা জীবন

 

Untitled-2যুক্তরাজ্যকে (ইউকে) সবসময় বিশ্ব জুড়ে ছাত্রদের জন্য শিক্ষার অন্যতম প্রধান লীলাভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।সারা বিশ্বের শীর্ষ ১00 বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় UK তে অবস্থিত,তাই UK কখোনই শিক্ষার্থীদের কাছে তার জৌলুস হারায়নি। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য UK একটি পছন্দের গন্তব্য ।একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে, আপনি অনেক সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন যা আপনাকে আপনার ব্যক্তিত্বে একটি নতুন মাত্রা আবিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। আপনি নতুন নতুন মানুষের দেখা করা এবং নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কার করার সুযোগ পাবেন।এই দেশ তার সমসাময়িক এবং প্রগতিশীল সংস্কৃতির জন্য পরিচিত,এখনো এটির একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসাবে আপনার অবস্থান আপনার দায়িত্ববোধকে বৃদ্ধি করবে এবং ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আপনার অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করবে।একাডেমিক প্রশিক্ষণে মান যোগ ছাড়াও, এটি অসাধারণ মূল্যবোধ দিবে যা আপনার কর্মজীবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

খাপ খাওয়ানো এবং বন্ধু তৈরী

UK-তে প্রথম কয়েক সপ্তাহ্, আপনি আপনার স্থান সঙ্গে পরিচিত হবার ক্ষেত্র অনেক সাহায্য সমর্থন খুঁজে পাবেন।শুরু করার আগে,প্রথমে পুলিশের সঙ্গে এবং ডাক্তারের সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য বিশেষ অধিবেশন আছে,যেখানে কর্মীরা আপনাকে ক্যাম্পাস এবং স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে গাইড করবে।এছাড়াও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নবিনসপ্তাহের আয়োজন করে,যেখানে আপনি বিভিন্ন দল ও সংগঠন পাবেন যারা আপনাকে সামাজিক হতে এবংছাত্রদের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করবে আপনার কাছে সব কিছু আকর্ষনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু একটি নতুন দেশের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া খুব কঠিন হতে পারে। এরকম মনে হওয়াটা একেবারে স্বাভাবিক এবং সেখানে এর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার জন্য নিজেকে সাহায্য করার অনেক উপায় আছে। এটা সবসময় পরামর্শ দেয়া হয় যে,সহযোগী ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং নতুন বন্ধু তৈরি করুন। আসলে,আপনি আপনার মতো অন্য আন্তর্জাতিক ছাত্র পাবেন যারা সেদেশে নতুন এবং নতুন বন্ধু খুঁজছেন। উপরন্তু, আপনি আপনার দেশ থেকে যাওয়া মানুষের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। অনেক কলেজ এবং প্রতিষ্ঠানে বিদেশী ছাত্রদের সাহায্য করার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজ আছে।এই সমাজ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন–উৎসব অনুষ্ঠান,পার্টি,মিলনীঅনুষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যটন স্থলে ভ্রমণের প্রস্তাব দেয়। সবসময় মনে রাখবেন,বন্ধু তৈরি করার সবচেয়ে সহজ উপায় নিজে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া! ক্লাসে আপনার পাশে বসা ব্যক্তির সাথে কথোপকথন শুরু করুন বা আলোচনা গোষ্ঠীতে যোগ দিন।

একাডেমিক সংস্কৃতি

Untitled-1

 

UK-এর একাডেমিক সংস্কৃতি বাংলাদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ভিন্ন।UK শিক্ষা ব্যবস্থা ধাতস্ত হতে আপনার কিছু সময় লাগতে পারে। UK-তে,আপনাকে সৃজনশীল হতে এবং নতুন ধারনা অন্বেষণ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। আপনাকে প্রায়ই আপনার নিজের বিশ্লেষণ এবং গবেষণা বা প্রকল্পের জন্য দলের সাথে কাজ করতে দেয়া হবে।

UK-এর শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই ইন্টারেক্টিভ;আপনি ধারণা শিখার সময় অনেক আনন্দ পাবেন। আপনার গাইড বা শিক্ষক মতামত প্রদান এবং আলোচনায় নেতৃত্ব দানে আপনাকে উৎসাহিত করবে।একাডেমিক প্রত্যাশা গবেষণা ক্ষেত্রে,গবেষণা স্তর এবং প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

পরিবহন

UK ছাত্র সম্প্রদায়কে পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যমের সুযোগ প্রদান করে। সাধারণত ছাত্ররা হাঁটে বা সাইকেল চালায়,পাবলিক পরিবহন এবং ট্যাক্সি ব্যবহার করে ।যদি আপনি নিয়মিত বাস ব্যবহার করেন, তাহলে একটি বাস পাস করা সর্বদা একটি ভাল উপায়।একজন ছাত্র হিসেবে,আপনি ভ্রমণ কার্ড/ পাসের উপর বিশেষ ডিসকাউন্ট পেতে পারেন।আপনি আরও সহায়তার জন্য ছাত্র ইউনিয়ন গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণের জন্য আপনি টিউব ট্রেন ব্যবহার করতে পারেন।

বিনোদন ও খাদ্য

UK সংস্কৃতির একটি অবিশ্বাস্য মিশ্রণ,আপনি একটি ক্লাব,ক্যফেটেরিয়ার, পাবস,কনসার্ট হল,সঙ্গীত উৎসব বা গিগ যেখানেই যান না কেন।নিয়মিত ছাত্রদের দল ও স্বাধীন শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যান্ড দলরা পারফর্ম করে। এছাড়াও আপনি জাদুঘর,প্রদর্শনী,গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং আর্ট গ্যালারীতে যেতে পারেন।দেশটি তার সাহিত্য এবং পারফর্মিং শিল্প ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত, নিয়মিত নাটক পার্ফর্মেন্সের সাথে সাথে এটি ঐতিহ্যের উন্নতিতে উৎসাহ প্রদান করে।

একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে, আপনার UK-এর খাদ্য অভ্যাস মেনে নিতে একটু অসুবিধা হতে পারে। খাপ খাওয়ানোর এবং বিভিন্ন রান্নায় অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করা সবসময় ভাল। আপনি চেষ্টা করলে দেশীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে খুঁজে পেতে পারেন।ভুলবেন না মাছ এবং চিপস ইংরেজি ব্রেকফাস্ট।এছাড়াও,আপনার দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত এবং শেয়ার করা নতুন বন্ধু তৈরির একটি দুর্দান্ত উপায়।

(এছাড়াও পড়ুন:UK-তে বসবাস খরচ বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য গাইড)

আবাসন

বসবাসের সঠিক জায়গা খোঁজা সবসময় একটি কষ্টসাধ্য কাজ।আপনাকে বাসস্থানের ক্ষেএে আপনার পছন্দ সম্পর্কে স্পষ্ট হতে হবে এবং প্রাপ্য সব তথ্যের সাথে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। অনেক ছাত্র তাদের অধ্যয়নের জায়গার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। এটি খরচ এবং সুবিধা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সাধারণত, বিদেশী ছাত্রদের জন্য বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবাসের স্বাধীন হল থাকে, যা আন্তর্জাতিক ছাত্রদের বাসা (আইএইচএস) হিসাবে পরিচিত,যেখানে আপনি আবেদন করতে পারেন।একটি ভালো বিকল্প হতে পারে ক্যাটারেড হল, যা খাবার প্রদান করে,আপনার খাদ্য পছন্দের উপর নির্ভর করে ।এই তথ্যগুলো আপনি যে প্রতিষ্ঠান এর অংশ হতে যাচ্ছেন তার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।অন্যথা, প্রতিষ্ঠান আপনাকে বিকল্প আবাসন সুবিধা খুজেঁ পেতে সাহায্য করতে পারে যেমন ব্যক্তিগত বাসস্থান। আবাসন সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে আসার পূর্বে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।যাহাই হউক না কেন, আপনি আপনার প্রয়োজনের জন্য যা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন এবং সেই অনুযায়ী একটি সিদ্ধান্ত নিবেন।

ক্রীড়া এবং অবসর কার্যক্রম

খেলাধুলা এবং বিনোদন আপনার মন প্রশান্ত করার একটি দুর্দান্ত উপায়। শখের বসে,স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস উন্নত করার জন্য বা কেবল মজার ছলে, আপনার আগ্রহ শেয়ার করে নতুন বন্ধু তৈরি করার একটি কার্যকর উপায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রীড়া সুবিধা প্রদান করে এবং একজন ছাত্র হিসাবে আপনি বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনেক সুযোগও পেতে পারেন। এছাড়াও, আপনি বিভিন্ন ক্লাব এবং সমাজে যোগ দিতে পারেন যেমন একটি নৃত্য ক্লাব বা একটি মিউজিক ক্লাব বা কিছু সামাজিক ও দাতব্য অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত হতে পারেন। শিক্ষার্থীরা আবিষ্কার এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত হবার বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে পেতে পারেন। UK তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত,আপনি পর্বত ট্রেকিং, সাইক্লিং বা ক্যাম্পিং এরমত দুঃসাহসিক অভিযান উপভোগ করতে পারেন।

Share Button
পড়া হয়েছে 227 বার

Back to Top